ঋণ নবায়নের নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে চলমান ঋণ নবায়নের নিয়মে বড় ধরনের শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ মঙ্গলবার এক বিশেষ সার্কুলারের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সুবিধা তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে কোনো চলমান ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো যৌক্তিক কারণে যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব না হয় তবে ঋণটি খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। এক্ষেত্রে বিলম্বের কারণসমূহ ব্যাংককে অবশ্যই যথাযথভাবে নথিবদ্ধ বা ডকুমেন্টেশন করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে অনুমোদিত ঋণসীমার অতিরিক্ত অংশ থাকলে তা নবায়নের আগেই সমন্বয় করতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত অংশকে আলাদা নতুন ঋণ হিসেবে দেখানো কিংবা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করে প্রকৃত শ্রেণিবিন্যাস গোপন করার সুযোগ থাকবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে এই নীতিমালা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে জারি করা একই বিষয়ক সার্কুলারটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতের এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে রাষ্ট্রের এমন দূরদর্শী সিদ্ধান্ত কেবল ব্যবসায়ীদের নয় বরং পুরো জাতির সমৃদ্ধির পথকে সুগম করে। সততা ও স্বচ্ছতার সাথে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করলে দেশের অর্থনীতির ভিত আরও মজবুত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে।