ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু
সরকারের লাভজনক পর্ষদে থাকার আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। ৩ মার্চ মঙ্গলবার ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে যে গত শনিবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৫৩৯তম সভায় তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সভায় ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।
বিদায়ী চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী ৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পদে থাকা সম্ভব নয় বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য যে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের শুরু থেকেই তিনি উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ ২১ বছর পর ২০২৪ সালের আগস্টে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে এসেছিলেন।
নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা আইবিএ এর অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তিনি গ্রামীণফোন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার বাংলাদেশের মতো নামি প্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর উচ্চতর শিক্ষা ও অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে পিএইচডি ডিগ্রি ন্যাশনাল ব্যাংকের চলমান তারল্য সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন।
একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাতই হলো দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিদায় আর দক্ষ পেশাদার ব্যক্তিত্বের আগমন যেন ন্যাশনাল ব্যাংকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়। আমরা আশা করি নতুন নেতৃত্বের অধীনে ব্যাংকটি সকল অনিয়ম ও তারল্য সংকট কাটিয়ে আমানতকারীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাত আরও মজবুত হোক এবং প্রতিটি মানুষের কষ্টার্জিত আমানত সুরক্ষিত থাকুক। সমৃদ্ধ আগামীর পথে ন্যাশনাল ব্যাংক এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এটিই আজ সবার প্রত্যাশা।