যারা বছরের পর বছর গুপ্ত ছিল, তারাই আজ মজলুমদের গুপ্ত বলে: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা বছরের পর বছর আত্মগোপনে ছিল, তারাই এখন মজলুমদের ‘গুপ্ত’ ও ‘সুপ্ত’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে তাদের নিজেদের অবস্থান আয়নায় দেখার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার কেরানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতি কখনো কল্পনাও করেনি যে ফ্যাসিবাদী শক্তি অপদস্ত হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতি ভাবেনি ছোপ ছোপ রক্ত আর সারি সারি লাশের রাজনীতি থেকে মুক্তি পাবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে যারা দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, তারাই ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার ধ্বংস ও জনগণের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিল। দেশকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, “যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা মানুষের শান্তি চায়। আর যারা দেশকে ভালোবাসে না, তারা মানুষকে কষ্ট দেয়।”
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে। সাড়ে ১৩ বছর ধরে দলের সব কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং বহু নেতাকর্মীর বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রতীক কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত দলকে নিষিদ্ধ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই না হলে ২০২৬ সালের নির্বাচন কীভাবে সম্ভব? জুলাই না হলে তো ফ্যাসিবাদীদের অধীনেই ২০২৯ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচন চাইব, আবার জুলাই মানব না—এটা হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছি—ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করব, চাঁদাবাজমুক্ত করব। মা-বোনদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ উপহার দেব।”
জামায়াত আমিরের ভাষ্য, ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো ব্যাংক ডাকাত থাকবে না, শেয়ারবাজার লুটের দুঃসাহস কেউ দেখাবে না এবং ঘরে ঘরে চাঁদার নামে ডাকাতির সুযোগ দেওয়া হবে না।