রাজনৈতিক সৌজন্যের নতুন দৃষ্টান্ত; চরমোনাই পীরের বাসায় তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দেশজুড়ে ইতিবাচক রাজনীতির ধারা সুসংহত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের (চরমোনাই পীর) বেইলি রোডের বাসভবনে যান। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছালে চরমোনাই পীরের ভাইয়েরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভ্যর্থনা জানান। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে দুই নেতা কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎ শেষে চরমোনাই পীর সাংবাদিকদের জানান যে তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দেশ গঠনে তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি আরও বলেন যে ইসলামের মৌলিক নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজ না হলে তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করবেন। তবে কোনো বিচ্যুতি ঘটলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাবেন। বৈঠকে তারেক রহমানের সাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনির্মাণের পথে শক্তিশালী ধাপ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে এর আগে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরার বাসভবনে এবং পরবর্তীতে রাত সোয়া ৮টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাড্ডার বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে তিনি নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধ এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ‘শহীদ আনাসের চিঠি’ ও ‘শাপলা কলির প্রতিকৃতি’ উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। টানা দুই দিনে প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সাথে এই হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা দেশের আগামীর রাজনীতিতে এক নতুন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সংস্কৃতির আভাস দিচ্ছে।
মতভিন্নতা সত্ত্বেও জাতীয় প্রয়োজনে একে অপরের প্রতি এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের সংস্কৃতিই পারে একটি সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ উপহার দিতে। আমরা বিশ্বাস করি ক্ষমতার পালাবদলে প্রতিহিংসা নয় বরং সেবার মানসিকতাই হোক প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল দর্শন।