৩৫ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পাচ্ছে বগুড়া; স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন মীর শাহে আলম
বগুড়াবাসীর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পূর্ণ অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নিরঙ্কুশ জয়ী বিএনপি নেতা মীর শাহে আলম নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। এর আগে এদিন সকালে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মীর শাহে আলম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূলের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মন্ত্রিত্বের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শিবগঞ্জসহ পুরো বগুড়া জেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলাটি দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রিত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত ছিল। ইতিহাস বলছে, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর পার হয়ে গেলেও এই জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। দীর্ঘকালীন যে আক্ষেপ ছিল, আজ তা ঘুচতে যাচ্ছে। মীর শাহে আলমের হাত ধরে বগুড়ার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরে মীর শাহে আলম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে অবহেলিত শিবগঞ্জ ও বগুড়াকে উন্নয়নের মডেলে রূপান্তর করতে তিনি নিরলস কাজ করে যাবেন। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তিনি তাঁর দাপ্তরিক কাজ শুরু করবেন।
রাজনীতির মাঠে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার হাত ধরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে এবং উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত বগুড়া পাবে তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।