পুলিশ সুপারের অনুপ্রেরণা: হাইওয়ে পুলিশের থানাগুলোতে এসপি রেজাউল করিমের কল্যাণমুখী উদ্যোগ
হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের অধীনে তামাবিল, জয়কলস, শেরপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, সাতগাঁও, খাঁটিহাতা ও ভৈরব হাইওয়ে থানায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনভিত্তিক একাধিক ফোর্সবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে তামাবিল হাইওয়ে থানায় মাইক্রোওভেন, ব্লেন্ডার ও বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার প্রদানসহ ভিআইপি গেস্টরুম স্থাপন করা হয়েছে। জয়কলস হাইওয়ে থানায় অফিসার ইনচার্জের বিশ্রামের জন্য রিগ্যাল খাটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। শেরপুর হাইওয়ে থানায় চার হাজার বর্গফুটের একটি মসজিদ নির্মাণ, ভিআইপি গেস্টরুম তৈরি এবং অফিস কক্ষের আয়তন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাতগাঁও হাইওয়ে থানায় অফিসারদের জন্য আবাসন কক্ষ নির্মাণ ও মেসের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অধীনে অলিপুর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানায় স্টিলের আলমারি এবং ভৈরব হাইওয়ে থানায় একটি রেফ্রিজারেটর প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম নিয়মিতভাবে তার অধীনস্থ থানাগুলো পরিদর্শন করেন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সমস্যা ও প্রয়োজন সরাসরি জানার উদ্যোগ নেন। কোনো ঘাটতি চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই থানাগুলোতে একটি ফোর্সবান্ধব ও মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও আন্তরিকতা ও মনোযোগ দিয়ে জনগণের সেবা দিতে সক্ষম হন। মাঠপর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করা দায়িত্বের অংশ এবং এর মাধ্যমেই সেবার মান উন্নত হয়।
তামাবিল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নিঃ সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, দীর্ঘদিন থানার সদস্যদের বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হতো। পুলিশ সুপারের উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন হওয়ায় এখন তারা স্বস্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন।
জয়কলস হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নিঃ সুমন কুমার চৌধুরী জানান, থানার অবকাঠামো ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন ফোর্সের মনোবল বৃদ্ধি করেছে এবং দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শহর ও যান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, মসজিদ নির্মাণসহ গেস্টরুম ও অফিস কক্ষ উন্নয়নের ফলে থানায় একটি সুশৃঙ্খলিত ও মানবিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নিঃ শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, আবাসন কক্ষ ও মেস সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় সদস্যরা আগের তুলনায় অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নিঃ মোঃ আবু তাহের দেওয়ান বলেন, অলিপুর ক্যাম্প স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়ায় দূরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন আরও কার্যকর হয়েছে।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নিঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রয়োজনভিত্তিক এসব উদ্যোগ থানার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা এনেছে।
ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নিঃ শওকত হোসেন বলেন, রেফ্রিজারেটরসহ অন্যান্য সুবিধা পুলিশ সদস্যদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সহায়ক হচ্ছে এবং একটি মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলছে।
অফিসার ইনচার্জরা আরও জানান, তাদের চাকরি জীবনে এ ধরনের সরাসরি ও কল্যাণমুখী উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। পুলিশ সুপারের মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তাদের কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক এবং এসব সুযোগ ও সুবিধা তাদের পেশাগত জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।
সিলেট অঞ্চলে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের কাছে পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম ইতোমধ্যেই একজন মানবিক ও কল্যাণমুখী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ হাইওয়ে পুলিশের সামগ্রিক সেবার মান আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।