পবিত্র রমজান মাসের ফজিলত ও ইবাদতের গুরুত্ব
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
পবিত্র রমজান মাসের আগমন মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমতস্বরূপ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এই দয়ায় আনন্দিত হতে, যা পার্থিব যে কোনো সঞ্চয়ের চেয়ে উত্তম। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের আগমনে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন এবং সাহাবাদের এর বরকত ও ফজিলত সম্পর্কে জানাতেন। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রমজান মাস ও এর তাৎপর্য নিয়ে ইসলামের মৌলিক নির্দেশনাগুলো আলোচনা করা হলো।
সিয়াম পালন ও জান্নাত লাভ
রমজান মাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সিয়াম বা রোজা পালন, যা ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি। পবিত্র কোরআনে মুত্তাকি হওয়ার উদ্দেশ্যে মুমিনদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, যারা ঈমানের সঙ্গে রমজানে সিয়াম পালন করে, তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো মহান আল্লাহর কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।
কোরআন নাজিলের মাস
রমজান মাসের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হলো এই মাসেই মানবজাতির হিদায়াতের আলোকবর্তিকা পবিত্র আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। শুধু কোরআন নয়, বরং ইবরাহিম আ.-এর সহিফা, তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলসহ সকল ঐশী গ্রন্থ এই মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানে জিবরাইল আ.-কে কোরআন শোনাতেন এবং নিজেও তিলাওয়াত শুনতেন।
জান্নাতের দ্বার উন্মোচন ও শয়তানকে বন্দি
রমজান মাস শুরু হলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা হয়। অভিশপ্ত শয়তানকে এই মাসে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, যার ফলে মানুষের মধ্যে সৎকাজের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচার কমে আসে। তবে যারা পূর্ব থেকেই শয়তানের কুপ্রভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত, তারা এই পবিত্র সময়েও অন্যায়ে লিপ্ত থাকতে পারে।
লাইলাতুল কদর ও দোয়া কবুল
এই মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এছাড়া রমজান মাস হলো দোয়া কবুলের মাস। হাদিস অনুযায়ী, রমজানের প্রতিদিন ও রাতে মহান আল্লাহ বহু মানুষকে মুক্তি দেন এবং মুসলিমদের প্রার্থনা কবুল করেন।
ক্ষমা ও মুক্তির সুযোগ
রমজান মাস মূলত পাপ থেকে ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মোক্ষম সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ব্যক্তিকে ধিক্কার দিয়েছেন, যে রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না। এই মাসের প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী সৎকর্মের অনুসারীদের অগ্রসর হতে এবং পাপাচারীদের থেমে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সবর ও আমলের প্রতিদান
রমজান ধৈর্য ও সবরের মাস। পানাহার ও অন্যান্য বৈধ কাজ থেকে বিরত থেকে মুমিনরা যে ধৈর্যের পরিচয় দেন, তার প্রতিদান মহান আল্লাহ বিনা হিসাবে প্রদান করেন। এই মাসে প্রতিটি নফল ও ফরজ ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। এমনকি রমজানে ওমরাহ পালন করা আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে হজ আদায়ের সমতুল্য মর্যাদা রাখে। সকল মুসলিমের উচিত এই বরকতময় মাসের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করা।