এ বছর জনপ্রতি সর্বোচ্চ ফিতরা দুই হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ
চলতি চৌদ্দশ সাতচল্লিশ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ দুই হাজার আটশত পাঁচ টাকা এবং সর্বনিম্ন একশত দশ টাকা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি সকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব ও ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী আটা যব কিসমিস খেজুর অথবা পনিরের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারিত হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে চান তবে তাঁকে এক কেজি ছয়শত পঞ্চাশ গ্রাম আটার বাজার মূল্য হিসেবে একশত দশ টাকা প্রদান করতে হবে। এছাড়া যব দিয়ে আদায় করলে তিন কেজি তিনশত গ্রামের মূল্য পাঁচশত পঁচানব্বই টাকা এবং খেজুরের ক্ষেত্রে দুই হাজার চারশত পঁচাত্তর টাকা নির্ধারিত হয়েছে। কিসমিস দিয়ে ফিতরা দিলে তিন কেজি তিনশত গ্রামের মূল্য হিসেবে দুই হাজার ছয়শত চল্লিশ টাকা এবং পনির দিয়ে আদায়ের ক্ষেত্রে দুই হাজার আটশত পাঁচ টাকা জনপ্রতি দিতে হবে।
সারা দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে সংগৃহীত নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের খুচরা বাজার মূল্যের গড় হিসাব করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজার মূল্যের কিছুটা তারতম্য হতে পারে সেক্ষেত্রে স্থানীয় খুচরা বাজার দর অনুযায়ী ফিতরা পরিশোধ করলেও তা শরীয়াহ মোতাবেক গ্রহণযোগ্য হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ তাদের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উল্লিখিত পণ্যসমূহের যেকোনো একটি অথবা সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে এই ওয়াজিব সদকা আদায় করতে পারবেন।
পবিত্র রমজান মাস শেষে অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সাদাকাতুল ফিতরের মূল উদ্দেশ্য। সামর্থ্যবানদের দেওয়া এই ক্ষুদ্র অংশটুকু সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঈদ আনন্দকে পূর্ণতা দেয়। বিত্তবানদের দান যেন দরিদ্রের হক হিসেবে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় এবং ত্যাগের মহিমায় সবার ঈদ হয়ে উঠুক উৎসবমুখর ও আনন্দময়। সমাজের প্রতিটি স্তরে ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন আরও দৃঢ় হোক এবং মানবতার জয়গান ধ্বনিত হোক প্রতিটি ঘরে। আমীন।