রোজার প্রতিদান স্বয়ং আমিই দিব’; রমজানের ফজিলত নিয়ে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
পবিত্র মাহে রমজানের অশেষ ফজিলত ও মর্যাদা নিয়ে আলোকপাত করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। তিনি বলেন, রমজান হলো সিয়াম সাধনা, তাকওয়া এবং জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্তি লাভের মাস। মহান আল্লাহ এই মাসটিকে অন্যান্য মাসের তুলনায় বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন।
লেখক তাঁর নিবন্ধে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে রমজানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদনের মূল উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
* রোজার বিশেষ পুরস্কার: সাধারণ নেক কাজের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও রোজার ক্ষেত্রে নিয়মটি ভিন্ন। হাদিসে কুদসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— “নিশ্চয় রোজা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দিব।”
* ইবাদতের সওয়াব: রমজান মাসে একটি নফল কাজ অন্য মাসের একটি ফরজের সমান এবং একটি ফরজ আদায় করলে অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
* কোরআন নাজিলের মাস: মানবজাতির হেদায়েতের সনদ পবিত্র কোরআন এই মাসেই লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে।
* জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত: রমজান শুরু হওয়ার সাথে সাথে রহমত ও জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।
* গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ: লেখক উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও এহতেসাবের (আত্মসংযম) সাথে রোজা রাখে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এমন বরকতময় মাস পেয়েও যে নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তাকে তিনি ‘হতভাগা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রোজাদারের জীবন ও তাকওয়া:
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, তারাবি নামাজ, সাহরি, ইফতার এবং জাকাত-ফিতরার মতো আমলগুলো মুমিনের মনে খোদাভীতি বা তাকওয়া সৃষ্টিতে সাহায্য করে। তিনি সকলকে বেশি বেশি ইবাদত ও তওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আহ্বান জানান।
লেখক পরিচিতি: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী সিলেটের কদমতলী মাজার জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব এবং জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।