পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটায় প্রশাসনের হানা: আদমদীঘিতে চার প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের জরিমানা
প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বগুড়ার আদমদীঘিতে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানার নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে চারটি ইটভাটাকে মোট নয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই গ্রামীণ জনপদ ও ফসলি জমির সন্নিকটে পরিচালিত হয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। অভিযানে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ উপস্থিত থেকে কারিগরি ও আইনি সহায়তা প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে মেসার্স ডিজিএম ব্রিকসকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেসার্স ডলার ব্রিকস, মেসার্স আরোয়া ব্রিকস এবং মেসার্স এন অ্যান্ড এস ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বত্বাধিকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এই ধরনের অভিযান আগামীতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।
দীর্ঘদিন ধরে সান্তাহার তিলোকপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই ভাটাগুলোর বিষাক্ত ও ঘন কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল স্থানীয় জনজীবন। বিশেষ করে মেসার্স আরোয়া, ডিজিএম ও ডলার ব্রিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছিল বলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। নির্গত ধোঁয়ার কারণে পথচারীদের চোখের সমস্যা ও শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ ছড়িয়ে পড়ছিল যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র উঠে আসার ঠিক এক মাসের মাথায় প্রশাসন এই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করল যা সচেতন মহলের নিকট অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে।
সবুজ শ্যামল প্রকৃতি আর উর্বর ফসলি জমি আমাদের বেঁচে থাকার মূল ভিত্তি। গুটিকতক মানুষের ব্যবসায়িক মুনাফার লোভে যখন সেই অমূল্য সম্পদ আর মানুষের ফুসফুস বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয় তখন আইনের কঠোর প্রয়োগই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। আদমদীঘির এই অভিযান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির সাথে অন্যায় করে কেউ পার পেতে পারে না। টেকসই উন্নয়ন আর নির্মল বায়ুর অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের এমন সম্মিলিত প্রতিরোধের ধারা বজায় রাখতে হবে। আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন ধোঁয়াহীন এক স্বচ্ছ আকাশ আর সবুজ মাঠের বুক চিরে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে।