ডিজিটাল লেনদেনে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের সাতটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ
দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থপ্রবাহকে নিরাপদ ও নিষ্কণ্টক রাখতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং খাতে প্রতারণা প্রতিরোধে সাতটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সোমবার ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই তথ্য নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান যে দেশে মোবাইল আর্থিক সেবার দ্রুত প্রসারের সমান্তরালে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় সরকার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও তৎপর।
প্রযুক্তিগতভাবে আমাদের বর্তমান লেনদেন ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত অসচেতনতা যেমন পাসওয়ার্ড বা পিন কোড অন্যের সাথে শেয়ার করা এবং ডিভাইসের নিরাপত্তার ঘাটতিকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র প্রতারণার জাল বিস্তার করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা এখন একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অধীনে কাজ করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে একজন গ্রাহক একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কেবল একটিই মোবাইল হিসাব সচল রাখতে পারবেন। এছাড়া গ্রাহকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি সংশ্লিষ্ট এনআইডির সাথে সঠিকভাবে নিবন্ধিত কি না তা যাচাই করতে একটি সুসংহত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
গ্রাহক সচেতনতাকে এই লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে নিয়মিতভাবে এসএমএস, ভয়েস মেসেজ, ইমেইল এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এজেন্টদের প্রতিটি কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক আচরণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সচল রয়েছে। গ্রাহকদের যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যা দ্রুততম সময়ে সমাধানের লক্ষ্যে প্রতিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভিযোগ সেলকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষায়িত বিভাগগুলো এখন প্রতিটি লেনদেনের ওপর নিবিড় তদারকি করছে এবং সন্দেহজনক যেকোনো তথ্যের প্রবাহ সরাসরি আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে যার ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা বলয়কে দুর্ভেদ্য করতে প্রতিটি ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে দুই স্তরের যাচাইকরণ পদ্ধতি বা টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা হয়েছে যা প্রতিটি লেনদেনকে নিশ্চিত সুরক্ষা প্রদান করছে। সরকারের এই দূরদর্শী ও সমন্বিত উদ্যোগগুলো কেবল প্রতারণা নির্মূল করবে না বরং ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দিনশেষে প্রতিটি নাগরিকের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা বিধান করাই এই আধুনিক শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য যেখানে প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর মানুষের নিরাপত্তা থাকবে একই সুতোয় গাঁথা।