ব্যক্তি নয় বরং পরিবারের সামগ্রিক উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী দর্শনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে বর্তমান প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য কেবল ব্যক্তি বিশেষের উন্নয়ন নয় বরং প্রতিটি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার ৮ এপ্রিল স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিনের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকারের প্রধান দর্শন হলো প্রতিটি পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একইসাথে তিনি শিক্ষাকে জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করে একটি জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনরব্যক্ত করেন।
সংসদীয় কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এই আইনি সংশোধনীটি পাস হওয়ার ফলে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে যা জাতীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অধিবেশন চলাকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেশে হামের প্রকোপ ও টিকার মজুত সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো সাখাওয়াত হোসেন গত দুই সরকারের শাসন আমলের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তিনি জানান যে বিগত সময়ের গাফিলতির কারণেই বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে যা নিয়ন্ত্রণে সরকার এখন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
অধিবেশনের এক পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত আসনের বাইরে অন্য আসনে বসা নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সংসদীয় শিষ্টাচার বিষয়ক এই বিষয়টি স্পিকার সরাসরি আমলে না নিলেও বিল পাসের চূড়ান্ত সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় নিজ আসনে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই প্রাণবন্ত আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা রাষ্ট্র পরিচালনার পথকে আরও সুগম করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দিনশেষে এই সকল আইনি প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন পরিকল্পনার একমাত্র গন্তব্য হলো সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যেন সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে এবং প্রতিটি ঘরে যেন সুখ ও সমৃদ্ধির আলো পৌঁছে যায় এটাই হোক আধুনিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্রের পরম সার্থকতা।