উড্ডয়নের পূর্বমুহূর্তে যাত্রীর আকস্মিক অসুস্থতা ও রানওয়ে থেকে বিমানের প্রত্যাবর্তন*
আকাশপথে যাত্রার চূড়ান্ত মুহূর্তে একজন যাত্রীর জীবন রক্ষায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন বাতিল করে ফিরে এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট। চেন্নাইগামী ওই উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও একজন আরোহীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে পাইলট দ্রুততম সময়ে বিমানটি বোর্ডিং ব্রিজে ফিরিয়ে আনার সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বুধবার ৮ এপ্রিল দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিজি-৩৬৩ ফ্লাইটে এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নির্ধারিত উড্ডয়নের লক্ষ্যে বিমানটি যখন রানওয়েতে অবস্থান করছিল ঠিক তখনই কেবিন ক্রুরা লক্ষ্য করেন যে এক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ করে উড্ডয়ন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে জানানো হয় যে সেই মুহূর্তে দুটি সামরিক উড়োজাহাজ অবতরণের অপেক্ষায় রয়েছে তাই সেগুলো নামার পরপরই ফ্লাইটটিকে বোর্ডিং ব্রিজে ফেরার সংকেত দেওয়া হবে। একই সাথে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলে পাইলট আশ্বস্ত করেন যে অসুস্থ যাত্রীকে বিমানের ভেতরেই অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে এবং গ্রাউন্ড সার্ভিস দল আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক বিমান দুটি নিরাপদে অবতরণের সাথে সাথেই বিজি-৩৬৩ ফ্লাইটটিকে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অসুস্থ যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হলে এক বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা বিমানবন্দরে উপস্থিত সাধারণ যাত্রী ও কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
অসুস্থ যাত্রীকে সুচিকিৎসার জন্য হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা শেষে বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি দুপুর ১টা ১০ মিনিটে পুনরায় চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার যাত্রা শেষে ফ্লাইটটি বিকেল ৩টা ৭ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে প্রতিটি যাত্রীর নিরাপত্তা এবং জরুরি স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা তাদের কাছে যেকোনো বাণিজ্যিক শিডিউলের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রাধিকার পায়। যান্ত্রিক ও কঠিন নিয়মশৃঙ্খলার এই যুগে মানুষের জীবনের প্রতি এমন অকৃত্রিম মমতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি প্রাণ অমূল্য। আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতাই আসলে সমাজ ও সভ্যতার সবচেয়ে বড় শক্তি যা জীবনের সংকীর্ণ পথগুলোকে আবার প্রশান্তির আলোয় ভরিয়ে দেয়।