জৈন্তাপুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে লিটু-ফয়েজ পরিষদের নিরঙ্কুশ জয়: উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় অত্যন্ত উৎসবমুখর ও উৎসব আমেজে সম্পন্ন হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন-২০২৬। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের লড়াই শেষে সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফ উদ্দিন লিটু সভাপতি এবং সারিঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়েজ আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নস্থ সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় যা স্থানীয় শিক্ষক সমাজে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে যে সমিতির মোট ২১৮ জন ভোটারের মধ্যে ২১০ জনই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন যা এক বিরল উপস্থিতির নজির সৃষ্টি করেছে। বিকেলে ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সভাপতি পদে মোঃ শরিফ উদ্দিন লিটু ১২৯ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জালাল উদ্দিন পান ৮০ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ফয়েজ আহমেদ ১০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দীপক চন্দ্র দেব পান ৬৬ ভোট।
অন্যান্য সম্পাদকীয় পদে বিজয়ী হয়েছেন যথাক্রমে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম নুরুল, কোষাধ্যক্ষ মোঃ মুফিজুর রহমান এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল হাসান। এর বাইরে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মোঃ নূরুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি পদে মোঃ বদিউল আলমসহ বেশ কয়েকটি পদে একক প্রার্থী থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ ও দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভোট গণনা পূর্ববর্তী আলোচনা সভায় বক্তারা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে নবনির্বাচিত কমিটি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের নায্য অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী দিনে পেশাগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শিক্ষকরা যখন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচন করেন, তখন তা কেবল একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নয় বরং একটি সুস্থ ও আদর্শিক ধারার ইঙ্গিত দেয়। মানুষ গড়ার কারিগরদের এই ঐক্য ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণ সমাজকে ইতিবাচক বার্তা প্রদান করে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি শিক্ষক তাঁর পেশাগত জীবনে পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবেন এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে আদর্শ মানুষ তৈরির কারিগর। অন্ধকারের সকল বিভেদ আর স্থবিরতা মুছে গিয়ে একতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি বিদ্যাপীঠ এবং প্রতিটি শিক্ষক ফিরে পাক তাঁর কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও সম্মান। সাহসের সাথে এই গণতান্ত্রিক চেতনাকে লালন করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাংলাদেশ।