জাফলংয়ে কূপের ভেতর থেকে দেশীয় পিস্তল উদ্ধার: তিন যুবক আটক
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র জাফলং এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে একটি কূপের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিনব্যাপী গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের নিরলস তৎপরতা এবং স্থানীয় সংবাদকর্মী ও জনসাধারণের সহযোগিতায় রাত ৮টার দিকে জাফলংয়ের রসুলপুর এলাকার একটি কূপ থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে জাফলং এলাকার একটি কূপে দেশীয় অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে এবং প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে সিলেটের এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে আতাউর রহমানের ছেলে সুরমান আহমদকে (২৫) আটক করে। পরবর্তীতে আটক সুরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনব্যাপী ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে রাত ৮টার দিকে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে জাফলংয়ের রসুলপুর এলাকার একটি গভীর কূপ থেকে দেশীয় তৈরি পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঘটনায় জড়িত আরও দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃত অপর দুই ব্যক্তি হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর পূর্বপাড়া এলাকার আতাউল মস্তফা (৩১) এবং সিলেটের শাহপরান থানার কুল্লুগ্রাম এলাকার টুটুল মিয়া (২৪)। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্রটি লুকিয়ে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে আটককৃতদের গোয়াইনঘাট থানায় রেখে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের সাথে কোনো অপরাধী চক্র বা কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একজনকে আটক করি এবং তার জবানবন্দি অনুযায়ী স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় কূপ থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পর্যটন এলাকায় যখন অস্ত্র ও অপরাধী চক্রের বিচরণ ঘটে, তখন তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্পের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ অপরাধীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি জনপদ হবে অস্ত্র ও সন্ত্রাসমুক্ত এবং প্রতিটি মানুষ নির্ভয়ে চলাচল করতে পারবে। অন্ধকারের সকল অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালন আর অপরাধের নীল নকশা মুছে গিয়ে নিরাপত্তার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি এলাকা এবং প্রতিটি নাগরিক ফিরে পাক তার কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা। সাহসের সাথে এই অপরাধ চক্র নির্মূল করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক নিরাপদ ও আধুনিক বাংলাদেশ।
**জাফলং এলাকায় আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি বা অপরাধ দমনে পুলিশের পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ সম্পর্কে আপনার কি আরও তথ্যের প্রয়োজন আছে?**