সিলেটে হাম ও রুবেলা নির্মূলে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিভাগীয় সভা সম্পন্ন
সিলেট বিভাগের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বিভাগীয় পর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা আজ রবিবার ১৯ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য এর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। সভায় জানানো হয় যে এবারের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ এর আওতায় সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী জনস্বাস্থ্যের বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় সঠিক তথ্যের প্রচার এবং ভুল ধারণা দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে সংক্রামক রোগের জটিলতা এড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও রোগমুক্ত সমাজ গড়তে এই টিকাদান কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের সন্তানদের হামের প্রাদুর্ভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হব।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেট জেলায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪ জন এবং মৌলভীবাজারে ২ লাখ ১০ হাজার ১৮৬ জন শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এছাড়া হবিগঞ্জে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪১ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৮ জন শিশুকে টিকা প্রদানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশাপাশি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যার পিআইসিইউ বিভাগ সচল রয়েছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাখী রানী দাস এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী সুফী মো. খালেদ বিন লংফুরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন যারা মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সফল টিকাদান নিশ্চিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।