সিলেটে দুই ওলির মাজারে মুসল্লিদের ঢল, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত শবে বরাত
সজল আহমেদ | সিলেট প্রতিনিধি
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হচ্ছে পবিত্র লায়লাতুল বরাত বা শবে বরাত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সূর্যাস্তের পর থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ পবিত্র রজনী পালন শুরু করেন, যা চলবে বুধবার ভোর পর্যন্ত।
প্রতিবছরের মতো এবারও শবে বরাত উপলক্ষে সিলেটের দুই ওলির মাজার—হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই নগরীর দরগাহ গেইট ও খাদিমনগর এলাকায় হাজারো মুসল্লি জড়ো হতে থাকেন। কেউ নফল নামাজ আদায় করছেন, কেউ কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন, আবার কেউ মাজার জিয়ারতে অংশ নিচ্ছেন।
জানা গেছে, শবে বরাত উপলক্ষে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সিলেটের এই দুই ওলির মাজারে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অনেককে এক মাজার থেকে অন্য মাজারে যেতে দেখা যায়। মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও আত্মশুদ্ধির আশায় রাতভর ইবাদতে মগ্ন থাকেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাজার এলাকায় প্রবেশের প্রতিটি গেইটে মুসল্লিদের সারি। একদিক দিয়ে প্রবেশ, অন্যদিক দিয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাজার মসজিদ ও আশপাশের কবরস্থানেও ছিল মুসল্লিদের উপস্থিতি। অনেকে ইবাদতের পাশাপাশি মাজার এলাকা ঘুরে দেখেন।
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে মাজারসংলগ্ন এলাকায় জমে উঠেছে বেচাকেনা। টুপি, আতর, গোলাপজল, আগরবাতি, মোমবাতি, তাসবিহসহ নানা ধর্মীয় সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া প্রবেশপথে সারিবদ্ধভাবে বসতে দেখা গেছে ভিক্ষুকদের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভিক্ষুকরা বেশি দানের আশায় এখানে ভিড় জমান। মুসল্লিরাও সামর্থ্য অনুযায়ী দান-খয়রাত করেন।
দুই ওলির মাজার ছাড়াও সিলেট নগরীর বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই মসজিদগুলোতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। অনেকে কবরস্থানে গিয়ে আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।
মুসল্লিদের অনেকেই জানান, তারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ইবাদতে অংশ নিয়েছেন। নিজেদের পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর কল্যাণ এবং বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করেছেন তারা।
এদিকে শবে বরাত উপলক্ষে অনেক পরিবারে তৈরি করা হয় হালুয়া ও নানা সুস্বাদু খাবার। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, আরবি শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) মুসলমানদের কাছে শবে বরাত বা ‘মুক্তির রাত’ হিসেবে পরিচিত। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত ও ক্ষমার দরজা খুলে দেন।