সংস্কারের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাই হচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডামাডোলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান বাসভবন ছেড়ে দিলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই সংস্কার করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জনসম্মুখে আসে। তবে ভবনটির প্রয়োজনীয় মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করতে অন্তত এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি উপযুক্ত বাসভবন খুঁজে বের করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিটি শেরেবাংলা নগরের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এলাকা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংলগ্ন এলাকাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে যমুনাকেই সাময়িকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের পর সরকারি বাসভবন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত তাঁর বর্তমান বাসভবনেই অবস্থান করবেন। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তিনি প্রতি মাসে এক লাখ টাকা বাড়িভাড়াসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য সরকারি সুবিধা লাভ করবেন। অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও ভিআইপিদের আবাসনের জন্য ইতিমধ্যে ৭১টি বাসা চূড়ান্ত করেছে যা তাঁদের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী প্রস্তুত করা হচ্ছে। যমুনা ভবনটি সংস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের একটি সুরক্ষিত ও আধুনিক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার এই পালাবদলের সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও কাঠামোর এই বিন্যাস নতুন এক প্রশাসনিক গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি নতুন সূচনার মধ্য দিয়ে যখন বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোচ্ছে তখন প্রতিটি সিদ্ধান্তই যেন জনস্বার্থ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গৃহীত হয় এটাই সাধারণ মানুষের একমাত্র কাম্য।