রেকর্ড আমদানিতেও বাজার অস্থির; রমজানের আগে খাতুনগঞ্জে অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রেকর্ড পরিমাণ আমদানি হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রতিটি গুদাম উপচে পড়া পণ্য মজুদ থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীদের অদৃশ্য কারসাজিতে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) খাতুনগঞ্জ সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের প্রতিটি আড়ত ও গুদামে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে এবং কাস্টম হাউসের তথ্যমতে, এবার চিনি, তেল, ছোলা ও খেজুরের আমদানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। তা সত্ত্বেও গত ছয় দিনে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মূলত নির্বাচনের পরপরই আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বাজারে পণ্যের বর্তমান চিত্র ও দামের তারতম্য:
| পণ্যের নাম | নির্বাচনের আগে (প্রতি কেজি) | বর্তমান দাম (প্রতি কেজি) |
|---|---|---|
| সাধারণ ছোলা | ৬৫-৭০ টাকা | ৭৪-৭৫ টাকা |
| উন্নত মানের ছোলা | ৭৪-৭৫ টাকা | ৮০-৮২ টাকা |
| মটর ডাল | ৭৪ টাকা | ৭৮ টাকা |
| মসুর ডাল | ৭৫ টাকা | ৮১-৮২ টাকা |
| শুকনো মরিচ | ৩৫০ টাকা | ৩৯০ টাকা |
| খেজুর (মানভেদে) | পূর্বমূল্যের চেয়ে ৫০-১০০ টাকা বৃদ্ধি | - |
খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি সোলাইমান বাদশা জানান, বাজারে মালের কোনো সংকট নেই। কিন্তু আমদানিকারকরা হঠাৎ করে বেশি দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছেন, যার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। অন্যদিকে, খেজুরের বাজার নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুল্ক ১০ শতাংশ কমালেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব খুচরা বাজারে দেখা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাড়ে সাত মাসে রেকর্ড ৪৭ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকার শুল্ক আদায় হয়েছে এবং ১৭ ক্যাটাগরির নিত্যপণ্যের আমদানি অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে কোনো পণ্য ঘাটতির সম্ভাবনা নেই।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এই পরিস্থিতির জন্য ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজি শুরু করেছে। প্রশাসনের নজরদারি না বাড়লে মধ্য রমজান পর্যন্ত এই উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষকে ভোগাবে।
ভোক্তাদের দাবি, কেবল জরিমানা বা মৌখিক হুঁশিয়ারি নয়, বরং বড় আমদানিকারকদের গুদামগুলোতে কঠোর মনিটরিং এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে নতুন সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় রমজানে সাধারণ মানুষের কষ্টের সীমা থাকবে না।