গাড়ি-প্লট সুবিধা বর্জনের সিদ্ধান্তকে টিআইবির সাধুবাদ; সম্পদ বিবরণী প্রকাশের দাবি
নবনির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে একটি ঐতিহাসিক ও আশাজাগানিয়া পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রীয় চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি একটি শক্তিশালী সূচনা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার প্রতিফলন’ বলে উল্লেখ করেন।
টিআইবি জানিয়েছে, কেবল এই ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; বরং রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন করা জরুরি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "বিপুল জনরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসা জোটের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।"
বিবৃতিতে টিআইবি দুর্নীতি রোধে সরকারকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে:
* সম্পদ বিবরণী প্রকাশ: জুলাই সনদের ৭৪ ধারা অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে সকল জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী হালনাগাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
* সরকারি কর্মচারীদের দায়বদ্ধতা: জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নিয়ম বাধ্যতামূলক করতে হবে।
* সমন্বিত কৌশল: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, ক্রয়খাত এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুস-দুর্নীতি বন্ধে একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
* সাংবিধানিক সংস্কার: ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন এবং দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি বিশ্বাস করে, সরকারি দলের এই প্রতীকী ত্যাগ যদি প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতায় রূপ নেয়, তবেই একটি সত্যিকারের জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। টিআইবির মতে, নতুন সরকারের এই নৈতিক অবস্থান দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লড়াইয়ে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।