প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাফলং চা বাগানের ভূমি দখল: শ্রমিকের ওপর হামলা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের গোয়াইনঘাটে জাফলং চা বাগানের মালিকানাধীন সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের ভিত্রিখেল গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে গফুর মিয়া বাগানের ৯নং সেকশনভুক্ত চাউড়াখেল মৌজায় পেশিশক্তি ব্যবহার করে দুটি ঘর নির্মাণ করেছেন। বাগান কর্তৃপক্ষের বারবার বাধা এবং স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই জবরদখল অব্যাহত থাকায় ঐতিহ্যবাহী চা শিল্প রক্ষায় চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে যখন বাগান কর্তৃপক্ষ গফুর মিয়াকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে বাধা প্রদান করেন। বাগানের চৌকিদার মো. লায়েছ মিয়া ও বাউন্ডারি চৌকিদার চতুর্দাস জানান, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও গফুর মিয়া তাঁদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে চা বাগানের ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. শাহাবুল্লাহ সরকার গত ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও ক্ষমতার দাপটে গফুর মিয়া সেই আইনি আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘর দুটির নির্মাণ সম্পন্ন করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায় এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতেই অভিযুক্ত গফুর মিয়া বাগানের কর্মচারীদের সাথে চরম অশালীন ও মারমুখী আচরণ করেন। ভয়াবহ বিষয় হলো, সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে গফুর ও তাঁর লাঠিয়াল বাহিনী বাগানের চৌকিদার লায়েছ আহমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে নিশ্চিত করেছেন বাগানের সহকারী ম্যানেজার শিপুল। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে এমন প্রকাশ্য হামলায় বাগান সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে তিনি নিজে যেতে না পারলেও পুলিশ ও তহশিলদার পাঠিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। একটি প্রাচীন চা বাগানের সম্পদ রক্ষা এবং নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সবুজ পাহাড় আর চা বাগানের এই শান্ত জনপদে জবরদখল আর সহিংসতার ছায়া কারোই কাম্য নয়। শ্রমিকের রক্ত আর ঘামে ভেজা এই মাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ রক্ষার অঙ্গীকার। সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সত্য ও সুন্দরের জয় হোক এবং জাফলং চা বাগানের সেই চিরচেনা রূপটি অক্ষুণ্ণ থাকুক, এটাই হোক সবার প্রত্যাশা।