প্রবাসীদের আয়কর রিটার্ন সহজ করতে এনবিআরের নতুন ই-মেইল ওটিপি সেবা
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে এবং অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও সহজতর করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে প্রবাসী করদাতারা মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর না করে তাদের নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পাবেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন ‘বিশেষ নিবন্ধন’ পদ্ধতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, অনেক প্রবাসী আগে বায়োমেট্রিক সিম ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে বিদেশে থাকায় মোবাইল ওটিপি সংগ্রহ করতে না পারায় পাসওয়ার্ড রিসেট বা রিটার্ন দাখিলে জটিলতায় পড়ছিলেন। এই সংকট নিরসনে এখন থেকে ই-মেইল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে প্রবাসীদের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে তার নিজস্ব ই-মেইল থেকে ereturn@etaxnbr.gov.bd ঠিকানায় প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ মেইল পাঠাতে হবে। আবেদনের সাথে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ভিসার পাতার অনুলিপি, বিদেশের বর্তমান ঠিকানা ও ফোন নম্বর এবং সর্বশেষ দেশত্যাগের তারিখের প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
রাজস্ব কর্তৃপক্ষ প্রেরিত তথ্যসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে আবেদনটি অনুমোদন করবে। এরপর থেকে করদাতারা তাদের ভেরিফায়েড ই-মেইলে ওটিপি গ্রহণ করে সহজেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, নতুন নিবন্ধন এবং ই-রিটার্ন দাখিলের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে পারবেন। এনবিআরের তথ্যমতে, অনলাইন রিটার্ন জমা দেওয়ার এই আধুনিক পদ্ধতিতে করদাতাদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। চলমান ২০২৫-২০২৬ কর বছরে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৯ লাখ করদাতা সফলভাবে অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণির সকল করদাতাকে তাদের ২০২৫-২০২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সবিনয় আহ্বান জানিয়েছে। পরবাসে থেকেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নাগরিক দায়বদ্ধতা পালনের পথ মসৃণ করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির এই প্রয়োগ একটি ইতিবাচক মাইলফলক। মাটির টান আর রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্যবোধ যেখানে এক বিন্দুতে মিলে যায়, সেখানেই প্রকৃত দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে; এনবিআরের এই উদ্যোগ সেই পথকে আরও প্রশস্ত করবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।