স্থানীয় নির্বাচনেও জোটের পথে এনসিপি জামায়াতের সাথে সমন্বয় বাড়ানোর কৌশল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে যে জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে নির্বাচনী সমঝোতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাচ্ছে দলটি। প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও অভ্যন্তরীণ আলোচনায় জোটভিত্তিক কৌশলের বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক হয়ে এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল যার মধ্যে ৬ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলটির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সংসদের ভেতর ও বাইরে রাজপথে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের মজবুত সাংগঠনিক কাঠামোর সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করার কৌশল হাতে নিয়েছে এনসিপি।
সূত্র মতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি তবে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি আসনে দুই দলের মধ্যে জোটগত সমঝোতার বিষয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। বিশেষ করে গত জাতীয় নির্বাচনে যে ৩০টি আসনে এনসিপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল সেগুলোতে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থাকায় সেই আসনগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরেও ইউনিয়ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
এনসিপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যে জুলাই সনদের আলোকে কাঙ্ক্ষিত সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে এই জোটবদ্ধ অবস্থান ফলপ্রসূ হবে। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা আর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সাংগঠনিক শক্তির এই মেলবন্ধন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে জোটের এই সমীকরণ কেবল ক্ষমতার ভাগাভাগি নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার এই সমঝোতা জনমনে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দেয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ঐক্য যেন কেবল ভোটের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে গণমানুষের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এটিই এখন কাম্য। সময়ের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক মৈত্রী দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আগামীর সংকট মোকাবিলায় একটি আদর্শিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে এই প্রত্যাশায় আজ রাজনীতি সচেতন মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। দেশপ্রেমের এই মেলবন্ধন যেন প্রতিটি নাগরিকের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।