ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অপপ্রচার রোধে কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন যে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে একটি মহল মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে এবং জনমনে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করতে প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সাতাশ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী।
নবাবগঞ্জ বিরামপুর ঘোড়াঘাট এবং হাকিমপুর এই চার উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত উক্ত সভায় মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি। তাই এই প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বরদাশত করা হবে না। মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন। এই মহতী উদ্যোগটি যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নির্ভুলভাবে পৌঁছাতে পারে সেই লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন যে এই প্রকল্পের সুফলভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে বর্তমান প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো প্রকার দুর্নীতিতে লিপ্ত হবে না। প্রতিটি কার্ড যেন প্রকৃত হকদার ও অভাবী মানুষের হাতে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করাই হবে কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব। স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে তিনি সকলের সচেতন সহযোগিতা কামনা করেন।
সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অন্ন ও বস্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে নেওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। যখন কোনো জনহিতকর কাজকে ঘিরে মিথ্যার জাল বোনা হয় তখন সত্যের প্রচারই হয় সবচাইতে বড় অস্ত্র। দরিদ্র মানুষের মুখের হাসি যেন কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে ম্লান না হয় এটিই এখন সময়ের দাবি। সততা আর নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ যদি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আস্থার জায়গা করে নিতে পারে তবেই একটি দেশ প্রকৃত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত পরিবার যেন তাদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার ফিরে পায় এবং উৎসবের আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে যায় এটাই হোক আগামীর প্রত্যাশা।