চেঙ্গেরখাল নদী গর্ভে বিলীন সালুটিকর গাংকিনারী সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে চেঙ্গেরখাল নদীর প্রবল ভাঙনে সালুটিকর গাংকিনারী সড়কের একটি বিশাল অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পহেলা মার্চ রোববার দুপুরের দিকে সালুটিকর গোয়াইনঘাট সড়কের বৌলাবিল সংলগ্ন ঢালা নামক স্থানে আকস্মিক এই ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় পাঁচশত ফুট সড়ক ২০ ফুট গভীর গর্ত হয়ে নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ভাঙনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শন করেন। অন্যদিকে সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি সরকার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেন। পরিদর্শনকালে নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানিয়েছেন যে মন্ত্রী মহোদয়ের বিশেষ নির্দেশনায় তাঁরা দ্রুত নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আব্দুল হাকিম চৌধুরী পরিদর্শন শেষে বলেন যে তিনি সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান থেকে সরাসরি সিলেট ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মন্ত্রী মহোদয় জনস্বার্থে এই সংকটাপন্ন সড়কের দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডব মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রাকে কঠিন সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। একটি সড়ক যখন নদী গর্ভে বিলীন হয় তখন তার সাথে জড়িয়ে থাকা শত শত মানুষের স্বপ্ন আর দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো থমকে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপ আর জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা এই অঞ্চলের মানুষের মনে কিছুটা হলেও আশার আলো সঞ্চার করেছে। দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে যেন জনদুর্ভোগ লাঘব হয় এবং নদীর স্থায়ী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এটিই এখন এলাকাবাসীর মূল দাবি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ আবারও সচল হবে এবং মানুষের যাতায়াত নিরাপদ হয়ে উঠবে এটিই আজ সময়ের প্রত্যাশা। মানুষের সেবায় নিবেদিত এই উদ্যোগগুলো যেন সফল হয়।