পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মধ্যপ্রাচ্যের তিন মন্ত্রীর ফোন প্রবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে টেলিফোন করেছেন কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ২ মার্চ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মন্ত্রীরা বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান যে যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া প্রবাসীদের বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধকে সমস্যার সমাধান মনে করে না। উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুজন বাংলাদেশি নিহত এবং কাতার ও বাহরাইনে আরও সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে চলমান এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৩১টি কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও ইরানও সমানতালে জবাব দিচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়াকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করে সর্বশক্তি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যখন যুদ্ধের লেলিহান শিখার মাঝে আটকা পড়েন তখন পুরো জাতি তাঁদের নিয়ে গভীর উদ্বেগে থাকে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই বীর সন্তানদের জীবন ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপে দ্রুত এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং প্রতিটি প্রবাসী নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে পারবেন। অস্ত্রের আস্ফালন আর বারুদের গন্ধ ছাপিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করুক এবং প্রতিটি প্রাণ রক্ষা পাক এটিই আজ সময়ের দাবি। মানবিকতার জয়গান গেয়ে পৃথিবী আবারও শান্তিময় হয়ে উঠুক এটিই আমাদের অন্তিম প্রার্থনা।