ইরান হামলার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা: ট্রাম্প প্রশাসনের অসংলগ্ন যুক্তিতে বাড়ছে বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। খোদ হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে একের পর এক বৈচিত্র্যময় ও পরস্পরবিরোধী যুক্তি উঠে আসায় খোদ মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে গত সোমবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিনাশ, নৌবাহিনী ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করার কথা উল্লেখ করেন। এমনকি শনিবার তিনি সরাসরি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সোমবারের বক্তব্যে সেই সুর নরম হতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রশাসনের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্যের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা তাদের লক্ষ্য ছিল না, যদিও হামলার ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই হামলার পেছনে ভিন্ন এক আগাম নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়েছেন। তার মতে, ইসরাইল হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলার শিকার হতো, তাই আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
প্রশাসনের এমন অস্পষ্ট পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম স্মিথ ও সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এই যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ ও ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ইরান থেকে কোনো আসন্ন হুমকির সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছাড়াই কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়ে এই বিপজ্জনক সংঘাত শুরু করা হয়েছে। এই যুদ্ধে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি প্রভাব রয়েছে বলেও সিনেট শুনানিতে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বারুদ আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে ক্ষমতার পালাবদল হয়তো ত্বরান্বিত হয়, কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তাতে কতটা মসৃণ হয় তা সময়ই বলে দেবে। আধিপত্যের লড়াইয়ে যখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন শুভবুদ্ধির জয় হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ চায় যুদ্ধের উন্মাদনা থেমে গিয়ে পৃথিবীতে আবার সংঘাতহীন ভোরের আলো ফুটে উঠুক।