জাফলং পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে ফেসবুকে ছাত্রনেতার খোলা চিঠি
গোয়াইনঘাট সিলেট প্রতিনিধি ৭ মার্চ ২০২৬
সিলেটের জাফলংয়ে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় এক ছাত্রনেতা। ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ উসমান আলী নিজের ফেসবুক আইডিতে এই চিঠি পোস্ট করে স্থানীয় হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন জীবিকার সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে জাফলং পাথর কোয়ারি ও পিয়াইন নদীকে কেন্দ্র করে জাফলং জুমপাড়া ও বল্লাঘাটসহ আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ দীর্ঘকাল ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। পাথর ও বালু উত্তোলনের সাথে সরাসরি জড়িত শ্রমিকদের পাশাপাশি নৌকা চালক পরিবহন শ্রমিক এবং লোড আনলোড কর্মীরাও এই পেশার ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি পরিচালিত অভিযানে ৯ জন শ্রমিককে আটক ৫৫ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ এবং প্রায় শতাধিক নৌকা বিনষ্ট করার ফলে স্থানীয় শ্রমিক পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।
ছাত্রনেতা উসমান আলী তার খোলা চিঠিতে পরিবেশ ও নদী রক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করে বলেন যে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত রেখেই একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় সনাতন পদ্ধতিতে পাথর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া উচিত। যান্ত্রিক পদ্ধতির বদলে কঠোর শারীরিক শ্রমের মাধ্যমে পাথর সংগ্রহকারী এই সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার জন্য তিনি মন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানান। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও তদারকির মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রেখে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যেকোনো উন্নয়নশীল সমাজের অন্যতম লক্ষ্য। জাফলংয়ের শ্রমজীবী মানুষের এই আকুতি কেবল একটি দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি হাজারো পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই। পরিবেশের ক্ষতি না করে শ্রমিকের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার একটি মানবিক ও কার্যকরী সমাধান দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে এটাই এখন জাফলংবাসীর প্রত্যাশা। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সঠিক পরিকল্পনাই পারে এই জনপদের মানুষের চোখে পুনরায় আশার আলো ফোটাতে।