বোলিংয়ে ধার থাকলেও ব্যাটিংয়ের দুশ্চিন্তা নিয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ
আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছে বিসিবি যেখানে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের এক মিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) ঘোষিত এই স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো প্রায় এক বছর পর ওয়ানডে দলে আফিফ হোসেন ধ্রুবর প্রত্যাবর্তন। সবশেষ ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর অফফর্মের কারণে দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারকে জায়গা করে দিতে বাদ পড়েছেন জাকের আলী অনিক। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশিত ছন্দে না থাকায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান এবং শামীম পাটোয়ারীকেও রাখা হয়নি এই সিরিজে। বিসিবির এই নির্বাচনি কৌশল পাকিস্তান সফরে দলকে কতটা ভারসাম্যপূর্ণ করবে তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে এখন জোর বিশ্লেষণ চলছে।
নির্বাচকরা অভিজ্ঞ লিটন দাসের ওপর ভরসা বজায় রাখলেও তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা আশা জাগানিয়া নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে মাত্র ৬৫ রান করা এই ওপেনারের পাশাপাশি সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে থাকা রান খরাও দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তিন ম্যাচে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় থাকা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন বিসিএলে মাত্র ১২৪ রান করা সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ব্যাটিং বিভাগে রান খরা থাকলেও বোলিং ইউনিটের দুর্দান্ত ফর্ম বাংলাদেশকে বড় স্বস্তি দিচ্ছে। ইনজুরির কারণে হাসান মাহমুদ ও তানজিম সাকিবের অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণের হাল ধরবেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং গতিদানব নাহিদ রানা। ঘরোয়া লিগে ৬ থেকে ৭টি করে উইকেট নিয়ে শরিফুল ও রানা তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন যা পাকিস্তানের কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারে।
স্পিন বিভাগে বড় ভরসার নাম রিশাদ হোসেন যিনি অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশ ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। ৪ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি বর্তমানে নির্বাচকদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। পাশাপাশি সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও বল হাতে ৬ উইকেট নিয়ে দলে নিজের প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেছেন। বিপরীত দিকে বাদ পড়া সোহান ও জাকের আলী অনিক ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নিজেদের ছায়া হয়ে থাকায় তাদের ছাড়াই স্কোয়াড সাজাতে বাধ্য হয়েছেন নির্বাচকরা। মূলত বোলিং শক্তির ওপর ভর করে একটি লড়াকু দল তৈরির লক্ষ্য থাকলেও ব্যাটিং অর্ডারের ধারাবাহিকতার অভাব পাকিস্তান সফরে বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে।
ক্রিকেটের বাইশ গজে জয়-পরাজয় কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয় বরং এটি হার না মানা মানসিকতা আর দেশপ্রেমের এক পরম পরীক্ষা। যখন হাজারো মানুষের প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়ে আমাদের ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন তখন প্রতিটি বল আর প্রতিটি রান হয়ে ওঠে এক একটি স্বপ্নের প্রতিফলন। মাঠের লড়াইয়ে উত্থান-পতন থাকবেই কিন্তু প্রতিকূলতা কাটিয়ে বুক চিতিয়ে লড়ে যাওয়ার নামই হলো প্রকৃত স্পোর্টিং স্পিরিট। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আমাদের প্রতিনিধিরা যখন বিদেশের মাটিতে সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়বেন তখন প্রতিটি সাফল্যে কোটি বাঙালির হৃদয়ে বয়ে যাবে আনন্দের হিল্লোল। ক্রিকেটের এই উন্মাদনা আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকুক এবং পাকিস্তানের কঠিন কন্ডিশনে আমাদের ছেলেরা বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে ফিরে আসুক এমনটাই এখন দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের প্রার্থনা। এভাবেই সাহসের সাথে বুক বেঁধে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করুক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।