প্রকৃতি ও কৃষি রক্ষায় কঠোর প্রশাসন: জৈন্তাপুরে বালু খেকোদের দমনে ইউএনওর ঝটিকা অভিযান
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার প্রাণস্পন্দন বড়গাং ও সারী নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় এক আপসহীন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে বড়গাং নদীর জাঙ্গালঘাট এবং সারী দুই এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বালু দস্যুদের দৌরাত্ম্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং সহকারী কমিশনার ভূমি পলি রানী দেবের উপস্থিতিতে এই অভিযানে আটজন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কৃষি জমি ও মানুষের বসতভিটাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছিল তাদের বিরুদ্ধে এই বজ্রকঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে জাঙ্গালঘাট ও সারী দুই এলাকা থেকে হাতেনাতে আটজনকে আটক করা হয় যাদের মধ্যে সাতজনকে বাংলাদেশ বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন, খাইরুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, জামাল উদ্দিন, আসাদ আহমেদ, সেবুল আহমেদ ও আবদুল করিমকে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বনিম্ন তিন দিন থেকে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক হওয়া অন্যজনের বয়স সতেরো বছর হওয়ায় তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে সুরাহার জন্য পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর বালু খেকোরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলে থাকা অবৈধ দশটি ইঞ্জিন চালিত বালুবাহী নৌকা ধ্বংস করে তাদের অপতৎপরতা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগের আঙুল উঠেছে বড়গাং নদীর ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের দিকে। তাদের দাবি সানি সোহা এন্টারপ্রাইজ নামক ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটি অধিক মুনাফার লোভে অবৈধভাবে বালু উত্তোলিত নৌকাগুলোকে সরকারি টোকেন সরবরাহ করে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের ছায়া দেওয়া এই নেপথ্য কারিগরদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে পরিবেশ ও জনপদ রক্ষায় প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
নদী কেবল একটি জলাধার নয় এটি হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকার উৎস। পাহাড় ও পানির মিতালীতে ঘেরা জৈন্তাপুরের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যখন কতিপয় লোভী মানুষের থাবায় মলিন হতে বসে তখন প্রশাসনের এই ভূমিকা জনমনে আশার আলো জাগিয়েছে। আমাদের আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ সবুজ পৃথিবী ও বহমান নদী রেখে যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতির এই কান্না থামিয়ে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাই হতে পারে টেকসই সমাধান।