জৈন্তাপুরে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান: মোবাইল কোর্টে জরিমানা ও কারাদণ্ড
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার রাংপানি এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে পরিবেশের ক্ষতিসাধন ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিযান সূত্র নিশ্চিত করেছে যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এতে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত একজনকে ১৫ দিন এবং অন্যজনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের আদেশ দেয়। জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় রাংপানি এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত সরঞ্জামাদি জব্দ করার পাশাপাশি স্থানীয়দের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব গণমাধ্যমকে জানান যে প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড জৈন্তাপুরে বরদাশত করা হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে যারা আইন অমান্য করে পরিবেশ ধ্বংসের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল শাস্তি প্রদানের জন্য নয় বরং একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে পাহাড় কাটা বা জলাশয় ভরাট রোধে স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত সংকল্পবদ্ধ।
সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ জলরাশির এই জনপদে যখন লোভের থাবায় প্রকৃতি তার আপন রূপ হারায়, তখন প্রশাসনিক এই হস্তক্ষেপই হয়ে ওঠে বন ও পরিবেশের শেষ রক্ষাকবচ। মাটির মায়া আর বাতাসের নির্মলতা যখন বিপন্ন হয় তখন সেখানে কোনো ছাড় দেওয়া মানেই হলো আগামীর বাসযোগ্য পৃথিবীকে ধ্বংস করা। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি নাগরিক হবে প্রকৃতির পাহারাদার এবং প্রতিটি উন্নয়ন হবে পরিবেশবান্ধব। অন্ধকারের সকল লালসা আর ধ্বংসলীলা মুছে গিয়ে সুন্দরের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি পাহাড় ও অরণ্য এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। সাহসের সাথে এই সবুজ বিপ্লবে অংশ নিয়েই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক ভারসাম্যপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশ।