আয়কর রিটার্ন দাখিলে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সারা বছর মিলবে সুযোগ
বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও করদাতাদের ভোগান্তি নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। মঙ্গলবার এনবিআরের প্রাক বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের আর নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সারা বছরব্যাপী অনলাইনে নিজেদের আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার বিশেষ সুযোগ পাবেন দেশের নাগরিকরা।
নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী বর্তমানে প্রচলিত ৩০ নভেম্বরের আয়কর দিবসের সীমাবদ্ধতা আর থাকছে না। পুরো বছরটিকে চারটি নির্দিষ্ট প্রান্তিকে ভাগ করে কর আদায়ের একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি প্রবর্তন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করদাতাদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে প্রবর্তন করা হচ্ছে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও বিশেষ সুবিধা। যারা বছরের প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দেবেন তারা পাবেন নির্দিষ্ট হারে করছাড়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে জমা দিলে তা নিয়মিত হিসেবে গণ্য হবে। তবে বিলম্বিত সময়ে অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের জন্য করের হার ক্রমান্বয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। মূলত করদাতাদের আর্থিক সাশ্রয় ও সময়ানুবর্তিতার ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন কর কাঠামো সাজানো হয়েছে।
চলতি আয়কর বর্ষের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪২ লাখ করদাতা তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের পরে জমার জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ২০ হাজার করদাতা। তবে কর অফিস থেকে অনুমোদন সাপেক্ষে তারা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিবরণী জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান কর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব সংগৃহীত হয়েছে যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এনবিআরের মূল লক্ষ্য। কর দেওয়া এখন আর ভয়ের বিষয় নয় বরং এটি নাগরিক গর্ব ও দেশের প্রতি ভালোবাসার অনন্য এক বহিঃপ্রকাশ। আপনার দেওয়া এই ক্ষুদ্র করই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। চলুন আমরা সবাই সুনাগরিক হিসেবে কর প্রদান করি এবং জাতীয় সমৃদ্ধির অংশীদার হই।