মহাকাশে পুষ্টি ও স্বাদ: আর্টেমিস মিশনের নভোচারীদের বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকা ও বিশেষ প্রস্তুতি
অর্ধশতাব্দীর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে চাঁদের অভিমুখে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক মানবযাত্রায় নভোচারীদের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে নাসা। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আর্টেমিস-২ মিশনের অভিযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত খাদ্যাভ্যাস ও আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ দশ দিন সুস্থ থাকার লক্ষ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই বিশাল মেন্যু সাজানো হয়েছে যেখানে স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টির সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা রয়েছে।
সুদূর মহাকাশে পাড়ি জমানো এই চার অভিযাত্রীর জন্য মোট ১৮৯ ধরনের খাবারের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যা শুনলে যে কেউ অবাক হবেন। এই মেন্যুতে মুখরোচক আমের সালাদ থেকে শুরু করে মসলাযুক্ত সবুজ শিম এবং ব্লুবেরি গ্রানোলা ও টরটিয়ার মতো আধুনিক সব খাবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জানা গেছে যে খাবারের পাশাপাশি তৃষ্ণা মেটাতে রাখা হয়েছে দশটিরও বেশি বৈচিত্র্যময় পানীয়। তালিকায় কফির পাশাপাশি ম্যাঙ্গো-পিচ স্মুদি ও স্ট্রবেরি জুসের মতো সতেজ পানীয় থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নভোচারী দিনে সর্বোচ্চ দুটি পানীয় গ্রহণের সুযোগ পাবেন। উল্লেখ্য যে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই চার নভোচারী মহাকাশের উদ্দেশ্যে সফল যাত্রা শুরু করেন।
নাসার সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে যে নভোচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও ওরিয়ন মহাকাশযানের সীমিত জায়গার কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। মহাকাশে কোনো ফ্রিজ না থাকায় তাজা খাবার নেওয়ার সুযোগ নেই তাই শূন্য মাধ্যাকর্ষণে সহজে খাওয়া যায় এবং কম বর্জ্য তৈরি হয় এমন শুকনো খাবারই প্রাধান্য পেয়েছে। নভোচারীরা মহাকাশযানে থাকা পানির ডিসপেনসার ব্যবহার করে শুকনো খাবারগুলো খাওয়ার উপযোগী করবেন এবং খাবার গরম করার জন্য ব্যবহার করবেন বিশেষ ফুড ওয়ার্মার। আর্টেমিস-২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক মিশন হওয়ায় মহাকাশযানের নিরাপত্তা ও নভোচারীদের শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজরদারি করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতের দীর্ঘ মেয়াদী অভিযানে সহায়ক হবে।
প্রকৃতপক্ষে নীল গ্রহের সীমানা ছাড়িয়ে অজানার সন্ধানে ছুটে চলা এই বীর সন্তানদের কাছে খাবার কেবল ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয় বরং এটি পৃথিবীর চেনা স্বাদের এক টুকরো স্মৃতি। যান্ত্রিক এই মহাকাশযানে বসে যখন তারা পৃথিবীর চেনা ফলের স্বাদ গ্রহণ করবেন তখন সেই মুহূর্তগুলো তাদের মনে করিয়ে দেবে প্রিয় জন্মভূমির কথা। বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এই যুগে মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি প্রয়োজনকে যেভাবে নিপুণভাবে সাজানো হয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা প্রত্যাশা করি স্বাদে ও সাহসে বলীয়ান হয়ে তারা সফলভাবে এই মিশন শেষ করে ফিরে আসবেন এবং মানব সভ্যতার জন্য বয়ে আনবেন নতুন কোনো দিগন্তের বার্তা।