পারমাণবিক বাংকারে স্বর্ণের পাহাড়
সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার গভীরে শীতল যুদ্ধের সময় নির্মিত একটি পরিত্যক্ত পারমাণবিক বাংকার এখন পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত অর্থনৈতিক কেন্দ্রে। সময়ের পরিক্রমায় সামরিক গুরুত্ব হারালেও, এই বাংকারটি এখন বিশ্ব স্বর্ণবাজারে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন এই ভল্টে প্রতি সপ্তাহে গড়ে এক থেকে দুই টন করে স্বর্ণ জমা করছে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান টেদার হোল্ডিংস। ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় রিজার্ভের বাইরে টেদারের হাতে থাকা এই বিপুল স্বর্ণভাণ্ডার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ব্যক্তিমালিকানাধীন মজুত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক বছরে টেদার প্রায় ৭০ টনেরও বেশি স্বর্ণ কিনেছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বর্তমানে প্রায় ১৪০ টন স্বর্ণ মজুত রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ স্বর্ণ অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেদারের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক ও ব্যাপক বিনিয়োগের প্রভাবেই গত বছর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৫,২০০ ডলার অতিক্রম করেছে। ফলে ক্রিপ্টো ও ঐতিহ্যবাহী সম্পদের এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।