শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অভিভাবকদের ভূমিকা অপরিসীম —ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন
লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেছেন, একটি ফুল যেমন সঠিক পরিচর্যা ছাড়া ফুটে উঠতে পারে না, তেমনি শিক্ষার্থীদের মেধা ও চরিত্র বিকাশেও প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন ও সচেতন অভিভাবকত্ব। অভিভাবকদের সামান্য দায়িত্বহীনতাও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই একজন শিক্ষার্থীর আগামীর ভিত গড়ে ওঠে। এই ভিত যত শক্ত হবে, তার ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল হবে এবং সেই সাফল্য ব্যক্তি ছাড়িয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে আসবে। এ জন্য তিনি সকল অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও যত্নবান ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভিসি বলেন, “আজ তোমাদের চোখে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, সেটিই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি। মনে রেখো—নম্বর বা গ্রেড কখনোই একজন মানুষকে সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করে না। সততা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও শেখার আগ্রহ—এই গুণগুলোই একজন মানুষকে সত্যিকারের সফল করে তোলে।”
তিনি আরও বলেন, আজকের এই সংবর্ধনা একটি অনুপ্রেরণামাত্র। প্রকৃত সম্মান তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের কাজ, চরিত্র ও অবদানের মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করবে। এ সময় কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার মতো মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি মধুশহীদ যুব ফোরামের সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মধুশহীদ যুব ফোরামের উদ্যোগে ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
মধুশহীদ যুব ফোরামের সভাপতি পিংকু আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি লিয়াকত হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন ল’ কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ কাওছার আহমদ, মধুশহীদ পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মল্লিক চৌধুরী এবং রুদন জামে মসজিদের সেক্রেটারি মো. আলাউদ্দিন বাদশাহ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মধুশহীদ যুব ফোরামের সহ-সভাপতি মো. গুলজার খান, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ খান শুলশান, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রকিব শাহীন, জাকারিয়া আহমদ, আবু সাইদ মো. তাইফ, অর্থ সম্পাদক রুমন আহমদ, প্রচার সম্পাদক রেহান আহমদ, সমাজসেবা সম্পাদক হাসানুজ্জামান রাসেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. হারুন চৌধুরী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. শামীম আহমদ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন।
এ ছাড়া কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. হানিফ আহমদ, মো. আরিফুর রহমান আরিফ, মো. আরব হোসেন, মো. মামুন খান ও মো. সান্টু। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ সাফওয়ান আহমদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের এই সাফল্যের পেছনে যাঁরা নীরবে অবদান রেখেছেন—তোমাদের বাবা-মা, শিক্ষক ও অভিভাবক—তাঁদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। তাঁদের বিশ্বাস ও ত্যাগই তোমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, আগামী দিনের ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞানকে মানবতার সেবায় কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাই হোক আজকের শপথ।