হচ্ছে না আইসিসির জরুরি বোর্ডসভা, পাকিস্তানকে নিয়ে অসন্তুষ্ট সংস্থাটি
ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আইসিসির জরুরি বোর্ডসভা বসতে যাচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজ জানিয়েছে, গতকাল কোনো জরুরি বোর্ডসভা বসেনি। ফলে ভারত ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইসিসি কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে এর আগের দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তান সরকার দেশটির দলকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পরামর্শ দেয়। এরপর থেকেই আইসিসির সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে গত পরশু এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে ম্যাচ বয়কট সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা পায়নি।
আইসিসি আশা প্রকাশ করেছে, পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটবে না। বিবৃতিতে বলা হয়,
‘পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে আইসিসি। ম্যাচ বয়কটের অবস্থান একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেখানে প্রতিটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
‘আইসিসির টুর্নামেন্টগুলো সততা, প্রতিযোগিতা, ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার মূল চেতনা ও পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।’
আইসিসি আরও উল্লেখ করে, পিসিবিকে নিজ দেশে ক্রিকেটের ওপর এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ, এটি সামগ্রিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে, যার অন্যতম সদস্য ও সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই।
বিবৃতির শেষাংশে আইসিসি জানায়, সংস্থাটির বর্তমান অগ্রাধিকার হলো বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা। এ দায়িত্ব পিসিবিসহ প্রতিটি সদস্য দেশের। একই সঙ্গে একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা পায়।