নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান আরিফুল হক চৌধুরীর
নিজস্ব প্রতিবেদক | জৈন্তাপুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৪ আসনের বিএনপি ও জমিয়ত জোট মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী শেষ সময়ে এসে নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে তারা নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জৈন্তাপুর উপজেলায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যখন জনগণ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, তখন পরাজিত শক্তিরা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার দিবাস্বপ্ন দেখছে। তারা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সিলেটের সচেতন জনতা অতীতেও যেমন সফল হয়েছে, এবারও রাজপথে থেকে সব চক্রান্ত নসাৎ করে দেবে। তিনি আরও বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। এই বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া দলের নেতাকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব।
বক্তব্যে তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যারা ভোটের রাজনীতি করছে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে মা-বোনদের ধোঁকা দিয়ে ওয়াদাবদ্ধ করার যে অপকৌশল নেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচিত হলে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিজয়ী হওয়ার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া জৈন্তাপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার মতে, দায়িত্ব পাওয়ার এক বছরের মধ্যেই এই অঞ্চলের দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।
ইরাদেবী মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশীদ এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাফিজ। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জমিয়তের স্থানীয় নেতারা। জনসভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।