হবিগঞ্জ ৪ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী বিএনপি প্রার্থী এস এম ফয়সল
দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জ ৪ সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে যেখানে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম ফয়সল। মূলত ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত এই ফলাফলে দেখা যায় এস এম ফয়সল ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। এই বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
হবিগঞ্জ ৪ আসনের চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ১৮৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৩টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই জয় নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই আসনে ৫ লক্ষ ৫২ হাজার ৭১১ জন ভোটারের মধ্যে ৩ লক্ষ ১০ হাজার ৭৩৯ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিন অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের ফলাফলেও জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে যেখানে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৭২টি ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক এবং ১ লক্ষ ২৩ হাজার ২৬টি ভোট ‘না’ সূচকের পক্ষে সংগৃহীত হয়েছে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি স্থানীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল এবং শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
পুরো নির্বাচনী এলাকা জুড়ে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুশৃঙ্খল তত্ত্বাবধানে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই রায়ের মধ্য দিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও আগামীর সমৃদ্ধির লক্ষ্যে জনগণ তাদের মূল্যবান ম্যান্ডেট প্রদান করেছেন যা আগামী দিনের সংসদীয় কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফলাফল ঘোষণা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির এই বহিঃপ্রকাশকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
জনগণের এই সুচিন্তিত রায় কেবল একজন প্রার্থীর জয় নয় বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থার প্রতীক। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা যেন পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও দেশপ্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এলাকার উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে পারি কারণ দিনশেষে এই মাটি ও মানুষের কল্যাণই আমাদের পরম লক্ষ্য।