পরমাণু সমঝোতায় মার্চ পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা ট্রাম্পের; অন্যথায় ফের ‘মিডনাইট হ্যামার’-এর হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মাঝে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন ও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে একটি কার্যকর পরমাণু সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে ‘ভয়ঙ্কর’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত বছর জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প জানান যে এবার সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ চান না, তবে মার্কিন স্বার্থ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানকে একটি ইতিবাচক চুক্তিতে আসতে বাধ্য করা হবে। বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। উল্লেখ্য যে ২০২৫ সালের ২২ জুন ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান থেকে চালানো সেই হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বর্তমানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পর্দার অন্তরালে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে সামনের মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘ফেজ টু’ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যা ইরানের জন্য হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। হোয়াইট হাউসের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে ইরান এখন পর্যন্ত তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিতে অটল থাকলেও আন্তর্জাতিক মহলে এই নতুন সময়সীমা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ সবসময় সংঘাতের চেয়ে সংলাপের পথকেই শ্রেয় মনে করে কারণ অস্ত্রের ঝনঝনানি কখনোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আনতে পারে না। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে কূটনীতির জয় হবে এবং যুদ্ধের বিভীষিকা মুছে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ও মানবিক প্রশান্তি।
আপনি কি এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আরও কোনো বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ তৈরি করতে চান?