পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা ও সামরিক উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে চড়া
তেলের দাম ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনার স্থবিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তেলের দাম এক লাফে ৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবারও (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে সেই ঊর্ধ্বগতি বজায় রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকালকের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর আজ লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ফিউচার তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬৫.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ৩০ জানুয়ারির পর তেলের বাজারে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যস্তর।
মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ: * পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা: জেনেভায় ইউক্রেন-রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান—উভয় আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
* সামরিক তৎপরতা: ইরানের নৌবাহিনীর মহড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে সাময়িক চলাচলের সীমাবদ্ধতা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকির বার্তা দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের তেলের বড় একটি অংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
* মার্কিন মজুদ হ্রাস: গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াও দাম বাড়ার অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
বাজার পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা: এসইবি (SEB)-এর প্রধান পণ্য বিশ্লেষক বিজার্ন শিলড্রপ জানিয়েছেন, ইরান এখন বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের আলোচনার কৌশল বুঝে গেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়া এবং দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে উঠে যাওয়া হবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বিশাল ধাক্কা। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৫-১০ ডলার 'জিওপলিটিক্যাল রিস্ক প্রিমিয়াম' যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল জ্বালানি খাতেই নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।