সুপ্রিম কোর্টের বাধা সত্ত্বেও ১০% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প; নির্বাহী আদেশে সই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করার পর, তিনি একটি নতুন আইনি কৌশলে আবারও অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গভীর রাতে তিনি এই সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন।
১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা (Section 122 of the Trade Act of 1974) ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই বিশেষ ধারাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বা বাণিজ্যিক ভারসাম্যের ঘাটতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির মূল বিষয়সমূহ:
* ১৫০ দিনের মেয়াদ: আগামী ১৫০ দিন বিশ্বের সকল দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে।
* বিকল্প আইনের অনুসন্ধান: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অন্য কোনো আইনি ধারায় স্থায়ীভাবে শুল্ক বজায় রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিস্তারিত অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
* অর্থনৈতিক প্রভাব: ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, গত এক বছরে এই শুল্কনীতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার আয় হয়েছে।
* ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তিনি লিখেছেন, "আমাদের কাছে চমৎকার সব বিকল্প আছে। এর মাধ্যমে আমরা আরও শক্তিশালী হবো এবং আরও অর্থ আদায় করতে পারব।"
প্রেক্ষাপট:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট' (IEEPA) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই পদক্ষেপকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য করে অবৈধ ঘোষণা করে। বর্তমানের এই নতুন নির্বাহী আদেশটি মূলত আদালতের রায়কে পাশ কাটিয়ে বাণিজ্য যুদ্ধের ধারা বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে চীন, ভারত, কানাডা এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।