প্রতিরক্ষাই শেষ রক্ষা শেষ ভাষণে আধ্যাত্মিক ও সামরিক শক্তির বার্তা দিয়েছিলেন খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর তাঁর শেষ জনসম্বোধনটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পহেলা মার্চ রোববার তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ানার প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায় যে মৃত্যুর মাত্র এগারো দিন আগে তিনি শেষবারের মতো জাতির উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করেন। জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক পরেই এই ভাষণটি দিয়েছিলেন তিনি যা এখন তাঁর বিদায়ী বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নিজের সেই শেষ ভাষণে খামেনি ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং আধুনিক প্রতিরোধমূলক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে কোনো দেশের কাছে যদি শত্রুকে মোকাবিলা করার মতো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকে তবে সেই দেশ খুব সহজেই প্রতিপক্ষের পায়ের নিচে পিষ্ট হবে। তাই নিজ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমাল রক্ষায় ইরানের অবশ্যই শক্তিশালী প্রতিরোধী অস্ত্র থাকতে হবে। তাঁর এই বক্তব্যটি ছিল মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার একটি অনড় অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে খামেনি প্রশ্ন তুলেছিলেন যে একটি দেশ কতটুকু পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখবে তা নির্ধারণ করার অধিকার অন্য কোনো রাষ্ট্রের নেই। এটি সম্পূর্ণ ইরানের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলে তিনি দাবি করেন। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিতে বড় ধরনের ধস নামার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন যে বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাতের সম্মুখীন হতে পারে যেখান থেকে পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। বিশ্লেষকদের মতে তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে যেমন দেশের প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এক চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি প্রদান করেছিলেন।
একজন নেতার শেষ কথাগুলো অনেক সময় তাঁর সারা জীবনের দর্শনের প্রতিফলন হয়ে ওঠে। খামেনির সেই ভাষণে প্রকাশিত দেশপ্রেম আর অদম্য সাহসিকতা আজ তাঁর অনুসারীদের মনে নতুন এক শোক ও শক্তির সঞ্চার করছে। যুদ্ধের এই বিভীষিকা আর আধিপত্যের লড়াইয়ের মাঝেও তিনি চেয়েছিলেন তাঁর দেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। ধ্বংস আর বারুদের এই দিনগুলো শেষ হয়ে যেন শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে এটিই আজ শান্তিকামী মানুষের প্রার্থনা। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে অতীতের সেই সতর্কবার্তাগুলো যেন আমাদের এক নিরাপদ ও সংঘাতমুক্ত আগামীর পথ দেখায়। প্রতিটি জীবনের নিরাপত্তা আর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় থাকলেই কেবল একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।