মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকটে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ম্যাচ ও অনুশীলন বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নির্ধারিত ইংল্যান্ড লায়ন্সের ক্রিকেট ম্যাচ বাতিল করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড বা ইসিবি। একই সাথে ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের আসন্ন বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পহেলা মার্চ ইসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং পরবর্তীতে উদ্ভূত উত্তেজনার কারণে খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার আবুধাবিতে পাকিস্তান শাহিন্সের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার কথা ছিল ইংল্যান্ড লায়ন্সের। তবে দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ম্যাচটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ড নারী দলের অনুশীলন কার্যক্রমও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ইসিবি নিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্য সরকার ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বর্তমানে কোচ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের অধীনে থাকা পঁচিশ সদস্যের ইংল্যান্ড লায়ন্স দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছে। তবে দেশটির আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় তারা এখনো ওই অঞ্চল ত্যাগ করতে পারেনি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জাতীয় টি-টোয়েন্টি দল নির্ধারিত সূচি মেনে ভারতের মুম্বাই ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছে। সেখানে তারা আগামী বৃহস্পতিবার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অংশগ্রহণ করবে। টুর্নামেন্টের আয়োজক সংস্থা আইসিসি জানিয়েছে যে তারাও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
খেলার মাঠের আনন্দ আর উত্তেজনা যখন যুদ্ধের দামামায় স্তব্ধ হয়ে যায় তখন তা ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এক বিষাদময় ছায়া ফেলে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা আর জীবনের মূল্য যে কোনো ট্রফি বা জয়ের চেয়ে অনেক বড়। সবুজ ঘাসের মাঠে ব্যাটে বলের লড়াইয়ের বদলে যখন কামানের গর্জন শোনা যায় তখন তা সভ্য সমাজের জন্য এক বড় বিপর্যয়। আমরা আশা করি দ্রুত এই অস্থিরতা কেটে যাবে এবং আবারও মাঠে ফিরবে ক্রিকেটের সেই চিরচেনা আমেজ। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত যেন নিরাপদ হয়ে ওঠে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে খেলোয়াড়রা একে অপরের সাথে মেতে ওঠে নির্মল আনন্দে। যুদ্ধের বিভীষিকা ছাপিয়ে শান্তির জয়গান গাওয়াই হোক আমাদের আগামীর লক্ষ্য।