বাহরাইন কুয়েত কাতার ও আমিরাত ভ্রমণে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চারটি দেশে ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। ২ মার্চ সোমবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এক জরুরি নির্দেশনায় বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অতীব জরুরি প্রয়োজন বাদে সব ধরনের ভ্রমণ পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে এই দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের আপাতত ওই অঞ্চলগুলোতে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে যারা বাহরাইন, কুয়েত, কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিকদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশে নিজেদের উপস্থিতি নিবন্ধন করতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযানের ফলে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ও যাতায়াত ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেখানে বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের পর অন্যান্য দেশগুলোও তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ দূতাবাসগুলো এই দেশগুলোতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
অশান্ত এই সময়ে যখন কামানের গর্জন আর যুদ্ধের ছায়া প্রতিটি জনপদকে গ্রাস করছে তখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা যখন হুমকির মুখে পড়ে তখন বিশ্ববিবেককে তা নাড়া দেয়। আমরা আশা করি দ্রুত এই অস্থিরতা কেটে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির সুবাতাস ফিরে আসবে। নিরাপদ আগামীর প্রত্যাশায় বিশ্বনেতারা যুদ্ধের উন্মাদনা থামিয়ে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার পথ বেছে নেবেন এটিই আজ শান্তিকামী মানুষের প্রার্থনা। প্রতিটি প্রাণের সুরক্ষা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে এবং পৃথিবী আবারও ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হোক।