তেহরানে হামলায় চীনা নাগরিক নিহত যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান বেইজিংয়ের
ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক অভিযানে অন্তত একজন চীনা নাগরিকের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই দুঃখজনক তথ্যটি প্রকাশ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে একজন বিদেশি নাগরিকের এই মৃত্যু বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং সংঘাতের ভয়াবহতা যে কোনো সীমানা মানছে না তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে অবিলম্বে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সকল প্রকার সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ করা। চীনের মতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বরং কেবল কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের একটি সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।
বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে কারণ চীন ঐতিহাসিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে ওকালতি করে আসছে। যুদ্ধের এই লেলিহান শিখা যেন আর কোনো নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে না নেয় সেজন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে চীন। বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং ইরানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
যুদ্ধের এই বীভৎসতা যখন সীমানা ছাড়িয়ে দূর প্রবাসের নিরপরাধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় তখন মানবিকতা এক চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়। নিজ দেশ ছেড়ে কর্মসংস্থানের খোঁজে আসা একজন সাধারণ মানুষের এমন করুণ বিদায় বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কামানের গোলা আর ক্ষেপণাস্ত্রের দাপট ছাপিয়ে যেন সম্প্রীতির সুবাতাস বইতে শুরু করে এবং প্রতিটি জনপদ নিরাপদ হয়ে ওঠে এটিই আজ শান্তিকামী মানুষের অন্তিম প্রার্থনা। আমরা আশা করি শক্তির উন্মাদনা থামিয়ে আলোচনার টেবিলে শান্তির নতুন সূর্য উদিত হবে এবং প্রতিটি অমূল্য প্রাণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। ধ্বংসের এই অন্ধকার কেটে গিয়ে পৃথিবী আবারও ভ্রাতৃত্বের আলোয় আলোকিত হোক এটিই আজ সময়ের দাবি।