৪৮ ঘণ্টা পেরোল ইরানের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা টানা ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশ্বখ্যাত ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে যে এই দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির প্রায় সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে রয়েছে। ইরানের মতো একটি বৃহৎ ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশে এত দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
নেটব্লকসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থার ধারেকাছেও নেই এবং দেশটির প্রায় প্রতিটি প্রান্তে কানেক্টিভিটি অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ইতিপূর্বেও ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নজির থাকলেও বর্তমানের এই ব্ল্যাকআউট তার তীব্রতা ও স্থায়িত্বের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং তথ্য আদান প্রদানের প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে বিদেশের সাথে যোগাযোগ এবং জরুরি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের ফলে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে যখন প্রিয়জনের সাথে কথা বলাটাই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার একমাত্র সান্ত্বনা তখন এই নীরবতা এক অসহনীয় যন্ত্রণার নাম।
যোগাযোগ যখন বিচ্ছিন্ন হয় তখন মানুষের মন ও মনন এক অজানা আতঙ্কে কুঁকড়ে যায়। আধুনিক এই পৃথিবীতে ইন্টারনেটের অনুপস্থিতি কেবল প্রযুক্তির অভাব নয় বরং এটি একটি জাতির কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়ার শামিল। আমরা আশা করি দ্রুত এই মেঘ কেটে যাবে এবং আবারও সচল হবে প্রতিটি ডিজিটাল সংযোগ। প্রতিটি মানুষের কথা বলার অধিকার আর অবাধ তথ্য প্রবাহ যেন ফিরে আসে এবং পৃথিবীতে সংঘাতের বদলে আলোচনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় এটিই আজ সবার প্রার্থনা। অন্ধকার কাটিয়ে প্রতিটি আঙিনায় আবারও আলোর ছটা ফিরে আসুক এবং প্রযুক্তির এই সেতুবন্ধন যেন মানুষকে আবারও ভ্রাতৃত্বের ডোরে আবদ্ধ করে।