আক্রান্ত হয়েও যুদ্ধে জড়াতে নারাজ উপসাগরীয় দেশগুলো শান্তিতে অনড় জিসিসি
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বেশ কিছু শহর ও স্থাপনা। ২ মার্চ সোমবার পাওয়া খবর অনুযায়ী দুবাইয়ের সুউচ্চ অট্টালিকা ও বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রিয়াদ ওমান কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং পুরো অঞ্চল জুড়ে শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পরও মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই যুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম বিন জাবির আল সানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল বা জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর উচিত হবে না ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো। তিনি মনে করেন তেহরান আরব দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেও এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া হবে আত্মঘাতী। তাঁর মতে বাইরের কিছু শক্তি চাচ্ছে আরব দেশগুলোকে এই যুদ্ধে টেনে আনতে যাতে সহায়তার নামে তারা এই অঞ্চলের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। জিসিসির প্রতি তাঁর আহ্বান যেন তারা কোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় একক ও ঐক্যবদ্ধভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
দোহাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমসের সম্পাদক ফয়সল আল মুদাহাকা আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে এই যুদ্ধটি মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এবং এর সঙ্গে আরব দেশগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ভৌগোলিক কারণে তারা এই যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়লেও নেতানিয়াহু বা ইরানের কোনো আদর্শের জন্য তারা নিজেদের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে চান না। গত শনিবার ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের মৃত্যুর পর তেহরান যখন প্রতিশোধ নিতে শুরু করে তখন থেকেই জিসিসি দেশগুলো তাদের আকাশসীমা আগ্রাসনে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
যুদ্ধের এই লেলিহান শিখা যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তখন শান্তি ও স্থিতিশীলতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েক দশক ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা আরব দেশগুলোর আধুনিক স্থাপত্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটন যখন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল ঠিক তখনই এই অতর্কিত হামলা পুরো অঞ্চলের শান্তিপ্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যুদ্ধের এই অন্ধগলি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অস্ত্রের চেয়ে প্রজ্ঞার ব্যবহার এখন বেশি জরুরি। প্রতিটি নিরপরাধ প্রাণ রক্ষা করা এবং জনপদকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোই হোক বিশ্বনেতাদের একমাত্র লক্ষ্য।
আমরা আশা করি বারুদের গন্ধ ছাপিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও শান্তির পায়রা ডানা মেলবে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন কোনো সংঘাত নয় বরং আলোচনার টেবিলেই ফিরে আসবে সমাধান। প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যেন হয় আগামীর পথচলা। রক্তের বদলে ভ্রাতৃত্ব আর ঘৃণার বদলে সম্প্রীতির এক নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। প্রতিহিংসার এই বৃত্ত ভেঙে শান্তির নতুন সূর্য উদিত হোক প্রতিটি গৃহকোণে।