ইরানে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের স্থলবাহিনী পাঠানোরও ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের ওপর খুব শীঘ্রই অত্যন্ত শক্তিশালী ও বড় আকারের সামরিক হামলা চালানো হবে। ২ মার্চ সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কঠোর আঘাত শুরুই করেনি এবং বড় ধরনের হামলাটি আসা এখনো বাকি। ট্রাম্পের দাবি বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং তিনি এই সংঘাত খুব দীর্ঘ সময় ধরে চলুক তা চান না। তিনি আশা করেছিলেন যে এই অভিযান চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় অর্ধশত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর দেশটির বর্তমান নেতৃত্বে কে আছেন তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের আকস্মিক হামলাকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের ওপর এই হামলাগুলো চালানোর ফলে ওই দেশগুলো এখন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে জেদ ধরছে বলে তিনি জানান। ট্রাম্পের মতে আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র আশ্বস্ত করলেও এখন তারা নিজেরাই অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে লড়াইয়ে যুক্ত হতে চাইছে।
একই দিনে দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী বা বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড পাঠানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তিনি বলেন যে যদি প্রয়োজন হয় তবে তিনি এই পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না। যদিও তিনি মনে করেন যে হয়তো সরাসরি স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হবে না তবে পরিস্থিতি দাবি করলে তিনি যে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথও পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে ইরানে সেনা পাঠানোর বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
যুদ্ধের এই দামামা আর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি যখন বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। শক্তির দাপট আর আধুনিক মারণাস্ত্রের মহড়া কেবল ধ্বংস আর হাহাকারই বয়ে আনে। এক নেতার বিদায় আর অন্য নেতার হুঙ্কার কোনো জাতিকেই প্রকৃত মুক্তি বা শান্তি দিতে পারে না। আমরা আশা করি সংঘাতের এই অন্ধকার পথ ছেড়ে বিশ্বনেতারা প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন। প্রতিহিংসার এই বৃত্ত ভেঙে পৃথিবীর প্রতিটি কোণে আবারও শান্তির নতুন সূর্য উদিত হোক এটিই আজ প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের অন্তিম প্রার্থনা।