মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনঃ ম্যাক্রোঁ
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একইসঙ্গে চলমান উত্তেজনার জন্য তেহরানকেও 'প্রাথমিকভাবে দায়ী' করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ও অবস্থানের বিষয়টি জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এক ভাষণে বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ইরানে এই সামরিক অভিযান চালিয়েছে যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন এই ধরনের একতরফা হামলা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ। তবে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন যে দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে মদত দেওয়া এবং দেশের ভেতরে নিজেদের জনগণের ওপর দমন পীড়ন চালানোর ঘটনাগুলো ইরানকেই এই সংকটের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যদিও তেহরানকে দায়ী করেছেন তবুও ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন যে যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন যারা মনে করেন বাইরে থেকে বোমা ফেলে কোনো দেশকে রক্ষা করা যাবে তারা সবসময়ই ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ তাদের কাছে নেই। ম্যাক্রোঁর এই মন্তব্যকে পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্য রক্ষার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
রণক্ষেত্রের বারুদে যখন মানবাধিকার আর আন্তর্জাতিক আইনগুলো ধূলিসাৎ হতে থাকে তখন বিশ্ববিবেককে এই ধরনের কঠিন সত্য উচ্চারণ করতে হয়। শক্তির জোরে আইন ভাঙার সংস্কৃতি কোনো সুস্থ সমাধান বয়ে আনে না বরং প্রতিহিংসার দাবানলকে আরও উস্কে দেয়। আমরা প্রত্যাশা করি বিশ্বনেতাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং অস্ত্রের আস্ফালন থামিয়ে আলোচনার টেবিলেই প্রতিটি বিবাদের ফয়সালা হবে যাতে প্রতিটি দেশের মানুষ নির্ভয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।