ইরানের ওপর হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন রুবিও
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে দেশ-বিদেশে ওঠা তীব্র সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আক্রমণের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারণ তার মতে এটি মিশন সফল করার জন্য একটি “অনন্য সুযোগ” ছিল। মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের জন্য আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের আগে তিনি এসব কথা বলেন।
রুবিও তার বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, "প্রেসিডেন্ট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে আমরা প্রথমে আঘাত করব না। বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার।" তবে এর আগে রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল যেহেতু ইরানে হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর ছিল, তাই ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সৈন্যদের ওপর সম্ভাব্য প্রতিশোধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আগাম বা প্রো-অ্যাক্টিভ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। মূলত আমেরিকান সৈন্যদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষাই এই সামরিক কৌশলের মূল লক্ষ্য বলে তিনি দাবি করেন।
প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্যে রুবিও আবারও ট্রাম্পের মূল অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "বিশ্বে এমন কোনো পথ নেই যে এই সন্ত্রাসবাদী সরকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরদারিতে থাকাকালীন পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরানকে পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ হওয়া থেকে রুখতে ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। রুবিওর এই মন্তব্যগুলো মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
রণক্ষেত্রের কৌশল আর কূটনীতির দাবার চালে প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনেই থাকে হাজারো যুক্তি ও পাল্টাযুক্তি। তবে বারুদের গন্ধে যখন আকাশ ভারী হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের প্রার্থনা কেবল এটুকুই থাকে—যুক্তি যেন যুদ্ধের ডামাডোলে শান্তির পথকে রুদ্ধ না করে। কারণ দিনশেষে ধ্বংস নয়, বরং নিরাপদ পৃথিবীই মানবসভ্যতার পরম কাম্য। শক্তির লড়াইয়ের চেয়ে সমঝোতার টেবিলই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের একমাত্র ঠিকানা।